উচ্চশিক্ষায় আস্থার সংকট: ইউজিসির ভেতরের অস্বস্তি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার
//দেলোয়ার জাহিদ//
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাত আজ এক গভীর আস্থার সংকটে দাঁড়িয়ে। University Grants Commission–এর আওতাধীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং জবাবদিহিতার ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক একটি পদত্যাগ সেই প্রশ্নগুলোকে নতুন করে সামনে এনেছে—আরও তীক্ষ্ণ, আরও অস্বস্তিকরভাবে।
ইউজিসির পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা Mohammad Tanzimuddin Khan গত ২৩ এপ্রিল কয়েকটি নির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগপত্রে উঠে আসা বিষয়গুলো কেবল একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা নয়; বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সমস্যাটি ব্যক্তি নয়, ব্যবস্থার গভীরে প্রোথিত।
যদি নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে সততা ও দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক লবিং, স্বার্থের সংঘাত এবং অনিয়ম প্রভাব বিস্তার করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া স্বাভাবিক। ইউজিসি, যা দেশের উচ্চশিক্ষার মান নির্ধারণ ও উন্নয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত, যদি নিজেই প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে পুরো খাতই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প—যেখানে World Bank–এর মতো সংস্থার সম্পৃক্ততা রয়েছে—সেখানে অনিয়ম বা চাপের অভিযোগ কেবল অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি দেশের আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা অবশ্যই একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এমন গুরুতর অভিযোগের মুখে প্রাতিষ্ঠানিক নীরবতা—যা আস্থার সংকটকে আরও গভীর করে।
এখানে একটি মৌলিক নীতি স্পষ্ট করা জরুরি: পদত্যাগ কখনোই জবাবদিহিতার বিকল্প হতে পারে না। বরং, পদত্যাগ ও অভিযোগ—এই দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখা উচিত। একজন কর্মকর্তা পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন; কিন্তু তাঁর উত্থাপিত অভিযোগ বা তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ—দুটিই সমান গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আওতায় আসতে হবে। অন্যথায়, একটি “resign and escape” সংস্কৃতি তৈরি হবে, যা প্রতিষ্ঠানের ভিতকে আরও দুর্বল করবে।
বর্তমান পরিস্থিতি তাই কেবল একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি বৃহত্তর সংকেত। উচ্চশিক্ষার গুণগত মানের অবনতি, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থাহানি, মেধাবী ও সৎ কর্মকর্তাদের নিরুৎসাহিত হওয়া—এসবই এই সংকটের সম্ভাব্য পরিণতি। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণে অচলাবস্থা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অদক্ষতাও বাড়তে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে কিছু জরুরি পদক্ষেপ অনিবার্য:
প্রথমত, উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাইয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ইউজিসির ভেতরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি।
তৃতীয়ত, স্বার্থের সংঘাত (conflict of interest) সংক্রান্ত নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
চতুর্থত, আন্তর্জাতিক অর্থায়নপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোতে তদারকি ও অডিট ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।
পঞ্চমত, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
এবং সর্বোপরি, অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
একজন শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এই খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়—বর্তমান পরিস্থিতি সাধারণ কোনো প্রশাসনিক দুর্বলতা নয়; এটি একটি সতর্কবার্তা। যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে এই আস্থার সংকট আরও গভীর হবে এবং এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পুরো জাতির জ্ঞানভিত্তিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করবে।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতকে টেকসই ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে ইউজিসিকে একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা ছাড়া বিকল্প নেই। পদত্যাগ সাময়িক সমাধান দিতে পারে; কিন্তু প্রকৃত সংস্কার আসবে তখনই, যখন স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া এবং দায়বদ্ধতা—এই তিনটি নীতি বাস্তবায়িত হবে।
এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—সংকটকে আড়াল করা, নাকি সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়া।
Requirements not met
Your browser does not meet the minimum requirements of this website. Though you can continue browsing, some features may not be available to you.
Browser unsupported
Please note that our site has been optimized for a modern browser environment. You are using »an unsupported or outdated software«. We recommend that you perform a free upgrade to any of the following alternatives:
Using a browser that does not meet the minimum requirements for this site will likely cause portions of the site not to function properly.
Your browser either has JavaScript turned off or does not support JavaScript.
If you are unsure how to enable JavaScript in your browser, please visit wikiHow's »How to Turn on Javascript in Internet Browsers«.
সম্পাদকীয়
উচ্চশিক্ষায় আস্থার সংকট: ইউজিসির ভেতরের অস্বস্তি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার
- Details
- Additional Resources:
- Additional Resources:
- Agro-Ocean
- Bangabandhu Development and Research Institute
- Bangladesh North American Journalists Network
- Bangladesh Heritage and Ethnic Society of Alberta (BHESA)
- Coastal 19
- Delwar Jahid's Biography
- Diverse Edmonton
- Doinik Ekattorer Chetona
- Dr. Anwar Zahid
- Edmonton Oaths
- Mahinur Jahid Memorial Foundation (MJMF)
- Motherlanguage Day in Canada
- Samajkantha News
- Step to Humanity Bangladesh







