Requirements not met

Your browser does not meet the minimum requirements of this website. Though you can continue browsing, some features may not be available to you.


Browser unsupported

Please note that our site has been optimized for a modern browser environment. You are using »an unsupported or outdated software«. We recommend that you perform a free upgrade to any of the following alternatives:

Using a browser that does not meet the minimum requirements for this site will likely cause portions of the site not to function properly.


Your browser either has JavaScript turned off or does not support JavaScript.

If you are unsure how to enable JavaScript in your browser, please visit wikiHow's »How to Turn on Javascript in Internet Browsers«.


Your browser either has Cookies turned off or does not support cookies.

If you are unsure how to enable Cookies in your browser, please visit wikiHow's »How to Enable Cookies in Your Internet Web Browser«.

 

Select Language / ভাষা নির্বাচন:

শীর্ষ সংবাদ

এই বিভাগে

বিজ্ঞাপন

  • Attestation Service from EdmontonOaths Alberta Commissioner of Oaths Services
  •  Bangladesh Heritage and Ethnic Society of Alberta · Promoter of Bangladeshi Culture and Heritage in and around Edmonton
  • Document Preparation Service from EdmontonOaths Alberta Commissioner of Oaths Services
  • R.S. Jeweler's in Bangladesh
  • Legal Witnessing Service from EdmontonOaths Alberta Commissioner of Oaths Services
  • Celebration of Mother Language, Culture and Heritage at MotherLanguageDay.ca
  • Samajkantha Online Inc. · The Voice of Society · Bengali online news magazine

Bengali Fonts

You need to install at least one Bengali font to read or write Bengali.

We offer a .ZIP-File true type font for download. Read the following installation instructions to see how to install the font.

দেশের খবর


//দেলোয়ার জাহিদ//

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি অস্থির ও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সরকার পরিবর্তন, গণঅভ্যুত্থান, রাস্তায় ছাত্র-জনতার শক্তির উত্থান এবং প্রশাসনিক কাঠামোর দ্রুত পুনর্বিন্যাস—সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। এর মধ্যে বিচারব্যবস্থা ছিল সবচেয়ে আলোচিত ও চাপের মুখে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বিশেষত “মব” বা সংগঠিত চাপের প্রভাব বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক ভারসাম্য এবং আইনের শাসন নিয়ে গভীর বিতর্কের জন্ম দেয়।

“মব” ও বিচারব্যবস্থা: নতুন এক বাস্তবতার উত্থান
“মব” বলতে সাধারণত এমন এক আবেগপ্রবণ বা সংগঠিত একটি জনসমষ্টিকে বোঝায়, যারা প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে সিদ্ধান্ত আদায়ের চেষ্টা করে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে এই প্রবণতা নতুন মাত্রা পায়। আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ, বিচারকদের বিরুদ্ধে সরাসরি স্লোগান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উপর ঘেরাওধর্মী চাপ—এসব ঘটনা বিচারব্যবস্থাকে এক নতুন বাস্তবতার মুখে দাঁড় করায়।
ফলে বিচারব্যবস্থাকে অনেক ক্ষেত্রেই আর সম্পূর্ণ স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয়নি; বা দেখার সুযোগ ছিলোনা বরং এটি রাজনৈতিক আবহ, জনমত ও রাস্তাঘাটের চাপের প্রতি সংবেদনশীল এক কাঠামোতে পরিণত হয়েছে—এমন ধারণা ক্ৰমে শক্তিশালী হতে থাকে।

প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ: এক ঐতিহাসিক ও প্রতীকী ঘটনা
২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের পদত্যাগ বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আন্দোলনকারীদের অবস্থান, বিক্ষোভ এবং প্রকাশ্য পদত্যাগের দাবির মুখে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কেবল ব্যক্তিগত ঘটনা ছিল না; বরং এটি বিচার বিভাগের উপর পরিকল্পিত চাপের এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে আপিল বিভাগের আরও কয়েকজন বিচারপতির পদত্যাগ পরিস্থিতির গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই ঘটনাগুলো বিচারকদের জন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক বার্তা বহন করে—রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতও “রাস্তার চাপ” থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়। এর ফলে বিচারিক স্বাধীনতার ধারণা ও নিরাপত্তাবোধ উভয়ই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

বিচারকদের উপর সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ
৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিচারকদের বিরুদ্ধে প্রচারণা, সমালোচনা এবং পক্ষপাতের অভিযোগের প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। কিছু বিচারককে পূর্ববর্তী রাজনৈতিক শক্তির ঘনিষ্ঠ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়; আবার অনেকের বিরুদ্ধে “জনবিচারধর্মী” ভাষায় আক্রমণ চালানো হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিচারকদের অপসারণ বা পদত্যাগের দাবি রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশে পরিণত হয়।
এর ফলে বিচারকদের সামনে এক জটিল দ্বৈত সংকট তৈরি হয়—
একদিকে সংবিধান ও আইনের নিরপেক্ষ ব্যাখ্যার দায়িত্ব,
অন্যদিকে জনরোষ, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয় ।

এই বাস্তবতা বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
বিচার বিভাগে পুনর্বিন্যাস ও সংস্কারের বিতর্ক
৫ আগস্টের পর বিচার বিভাগে দ্রুত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল—
নতুন প্রধান বিচারপতির নিয়োগ,
আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের পুনর্বিন্যাস,
কিছু বিচারকের পদত্যাগ,
বিচারিক প্রশাসনে নতুন অগ্রাধিকার নির্ধারণ,
এবং বহুল আলোচিত রাজনৈতিক মামলাগুলোর পুনর্মূল্যায়ন।

সরকারপক্ষ ও সমর্থক মহল এসব পরিবর্তনকে “বিচার বিভাগের সংস্কার” হিসেবে উপস্থাপন করলেও সমালোচকদের প্রশ্ন—এসব কি প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, নাকি রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ? আন্তর্জাতিক মহল থেকে শুরু করে দেশের নানা স্তরে এমন সব বিষয় উঠে আসছে  যে এখানে দমন, পীড়ন, নির্যাতন ও হত্যা নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কারণ বিচার বিভাগের প্রতি জনআস্থা নির্ভর করে শুধু পরিবর্তনের উপর নয়, বরং সেই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সাংবিধানিক ছিল তার উপরও।

একে “বিচার” বনাম “জনআবেগ” না বলে একটি পরিকল্পিত নকশা বললে ভুল হবে না।

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল ন্যায়ানুগ দ্রুত বিচার, দুর্নীতির শাস্তি এবং রাজনৈতিক অপব্যবহারের অবসান। কিন্তু ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি হলো—বিচার হবে আদালতে, উস্কে দেয়া সংগঠিত ছাত্র-জনতার চাপে নয়।

যখন আদালতের সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রেন্ড, রাস্তাঘাটের স্লোগান বা রাজনৈতিক আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কায় পড়ে, তখন আইনের শাসনের জায়গায় ধীরে ধীরে “আবেগের শাসন” প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এখানেই “মব জাস্টিস” ও “রুল অব ল”-এর মৌলিক সংঘাত।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, গণতন্ত্রে জনগণের ইচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সেই ইচ্ছার বাস্তবায়ন অবশ্যই সাংবিধানিক কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হতে হবে। অন্যথায় ন্যায়বিচার প্রতিশোধে রূপ নিতে পারে।

২০২৬ সালের নির্বাচন ও বিচার বিভাগের ভূমিকা
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া।  এখানেও   বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে আদালতের সামনে যেসব প্রশ্ন আসতে পারতো , তার মধ্যে ছিল —
রাজনৈতিক মামলা,
প্রার্থিতা বাতিল বা অযোগ্যতা সংক্রান্ত বিরোধ,
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ,
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ,
এবং রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার।

এসব বিষয়ে আদালতের ভূমিকা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কিন্তু বিচারকরা যদি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, সামাজিক চাপ বা মব-সংস্কৃতির আশঙ্কায় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন, তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জনগণের আস্থা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এবং হচ্ছে ও তাই.

বিচারিক স্বাধীনতা: গণতন্ত্রের শেষ আশ্রয়
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগ হলো নাগরিকের শেষ সাংবিধানিক আশ্রয়স্থল। নির্বাহী ও আইনসভা যখন বিতর্কিত বা পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে অভিযুক্ত হয়, তখন জনগণ শেষ ভরসা হিসেবে আদালতের দিকে তাকায়। কিন্তু আদালত নিজেই যদি ভয়, চাপ ও জনআবেগের মধ্যে পরিচালিত হয়, তবে আইনের শাসনের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে।
বিচার বিভাগের সংস্কার অবশ্যই প্রয়োজন হতে পারে। তবে সেই সংস্কার হতে হবে—
সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে,
প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে,
এবং বিচারিক স্বাধীনতাকে  অক্ষুণ্ণ রেখে।

রাস্তার চাপ, আবেগনির্ভর জনআন্দোলন বা মব-সংস্কৃতির মাধ্যমে বিচার বিভাগ পুনর্গঠন দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক নজির তৈরি করতে পারে।


৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থা এক গভীর রূপান্তর ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারকদের পদত্যাগ, আদালতের উপর সংগঠিত জনচাপ, সামাজিক মাধ্যমে বিচারিক ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া এবং রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস—সব মিলিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নতুন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। গণতন্ত্রে জনগণের শক্তি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সেই শক্তি যদি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভয়, চাপ বা প্রতিশোধের সংস্কৃতির মধ্যে পরিচালিত করে, তবে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রই দুর্বল হয়ে পড়ে। ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়।  ন্যায়বিচারের প্রকৃত ভিত্তি হলো স্বাধীন আদালত, নিরপেক্ষ বিচারক এবং আইনের শাসনের প্রতি অটল আস্থা—মবের শাসন নয়। “মব কেবল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়, নাগরিকতার বিরুদ্ধেও দাঁড়ায়” সঙ্কট উত্তরণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বিচারবিভাগের স্বাধীনতা।

 

 

মুহাম্মদ আমিনুল হক

সুনামগঞ্জ,৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি দাশ ছিলেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একজন অকুতভয় সৈনিক। সুনামগঞ্জে তার নামে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি’। আলোর বাতিঘর হিসেবে পরিচিত ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি’টি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জেলার সাহিত্যানুরাগীরা জ্ঞানচর্চায় সমৃদ্ধ হতে পারছেন। তাই সুনামগঞ্জকে অনেকেই সাহিত্য ও বাউল গানের উর্বর ভূমি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। 

১৯৪৯ সালের ২৬ এপ্রিল জগৎজ্যোতি দাসের জন্ম হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের জলসুখা গ্রামে। সুনামগঞ্জ কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তিনি একজন গেরিলাযোদ্ধা ছিলেন। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার কতৃক মরেণোত্তর বীর বিক্রম উপাধি লাভ করেন জগৎজ্যোতি দাস। 

‘জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি’র ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৫৯ সালের ১৭ জুন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক বি আর নিজাম। এ বৈঠকে তাঁকেই সভাপতি ও শহরের আরেক গুণীজন মনোরঞ্জন চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি পাঠাগারের যাত্রা শুরু করা হয়। 

সেদিনের বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন মফিজ চৌধুরী, আবু হানিফা আহমদ (নবাব মিয়া), মনোরঞ্জন চৌধুরী, এম এইচ চৌধুরী, নাজির উদ্দিন, হেমচন্দ্র চৌধুরী, এ এফ এম আবদুল আলী, এ কে সরকার, সুরেশ চন্দ্র আচার্য্য, এম হোসাইন, দেওয়ান আনোয়ার রাজা চৌধুরী, আফাজ উদ্দিন আহমদ, টি হোসাইন, এ গণি, অক্ষয় কুমার দাস, লতিফ উদ্দিন চৌধুরী।

অ্যাডভোকেট হুমায়ূন মঞ্জুর চৌধুরী ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি’র বার্ষিক আলোচনা সভায় স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে লাইব্রেরি সম্পর্কে ৬০ বছর আগের স্মৃতি তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের লোকাল বোর্ডের চেয়ারম্যানের কক্ষে নিয়মিত আড্ডায় বসতেন শহরের গুণীজনরা। আর এ বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয় একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার। ওই দিন থেকেই লাইব্রেরিটির যাত্রা শুরু হয়ে আজও শহরে আলো ছড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি’র পুরোনো নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায় এ তথ্য। দীর্ঘ ৬০ বছরের যাত্রায় শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা ঘটনার সাক্ষী এ ‘পাঠাগার’। শহরের শত মানুষের সুখস্মৃতি জড়িয়ে আছে এই গ্রন্থাগারে। একসময়ের টিনশেড ভবন থেকে এখন সুরম্য দ্বিতল ভবন হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার বইয়ের বিশাল ভান্ডার আছে এখানে।

শুরুতে ‘পাঠাগার’টির নাম ছিল ‘সুনামগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি’। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ‘শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগার’ নামে নামকরণ করা হলেও ব্র্যাকেটে ‘সুনামগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি’ কথাটি যুক্ত ছিল। সর্বশেষ নাম ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি’টি আলোর বাতিঘর হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠে। 

শহরের কেন্দ্রস্থল ট্রাফিক পয়েন্ট (আলফাত স্কয়ার) থেকে সামান্য পূর্ব দিকে ডি এস রোডের উত্তর পাশে এ লাইব্রেরিটির অবস্থান। এর নিচতলায় বিশাল পাঠকক্ষ, অফিসকক্ষ ও সাধারণ সম্পাদকের বসার আরেকটি কক্ষ রয়েছে। দোতলায় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মিলনায়তন। আর পূর্ব পাশে রয়েছে গ্রন্থাগারের নিজস্ব একটি বিপণিবিতান।

লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত বিশিষ্টজনেরাই প্রথমে উপহার স্বরূপ গ্রন্থাগারে বই প্রদান করেন। পাশাপাশি বই সংগ্রহ করেন এবং স্থানীয় মানুষদের লাইব্রেরিতে এসে বই পড়তে উৎসাহিত করেন। পরে শহরের স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও লাইব্রেরিতে এসে বই পড়তে শুরু করেন। 

শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত লাইব্রেরিতে শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন প্রতিদিন বিকেলে বই, পত্র পত্রিকা পড়তে আসেন। অনেকে আবার বাড়িতে নিয়েও পড়েন পছন্দের বই। লাইব্রেরিতে নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, সুধী সমাবেশ, রবীন্দ্র ও নজরুলজয়ন্তী উদযাপন করা হয়। 

 

১৯৮৬ সালে পাঠাগারের পাকা ভবন নির্মিত হয়। ২০০২ সালে ভবনটির দ্বিতীয় তলা নির্মাণ করা হয়। পাঠাগারে ৫৪টি আলমারিতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কবিতা, গান, ছড়া, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ভ্রমণ ও শিশুতোষসহ বিভিন্ন ধরনের বই। এখানে স্নাতক সম্মান বর্ষের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইও রাখা হয়েছে। লাইব্রেরির ওয়েবসাইটে এ-সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য দেয়া আছে। 

 

এছাড়াও এ লাইব্রেরিতে এখন দেশের শীর্ষ স্থানীয় জাতীয় দৈনিক ও আঞ্চলিক পত্রিকাসহ সুনামগঞ্জের সব স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা রাখা হয়। পাশাপাশি রাখা হয় ম্যাগাজিনও। প্রতিদিন বেলা ৩ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পাঠকক্ষ খোলা থাকে। 

 

লাইব্রেরিতে বর্তমানে দাতা, আজীবন, সাধারণ ও শিক্ষার্থী সদস্য আছেন ৭৫৮ জন। ২০১৪ সাল থেকে গ্রন্থাগার পরিচালনা কমিটির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন শুরু হয়। পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক এই কমিটির সভাপতি হন। লাইব্রেরির বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট খলিল রহমান। লাইব্রেরিতে কর্মী আছেন ৪ জন।

 

সুনামগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য গ্রন্থের লেখক আবু আলী সাজ্জাদ হোসাইন তাঁর এক লেখায় উল্লেখ করেছেন, পাঠাগার পরিচালনার জন্য ১৯৬২ সালে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়।

 

লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক খলিল রহমান বাসস’কে বলেন, ‘আধুনিকায়নের যুগে নানা মাধ্যম থাকার পরও মানুষ লাইব্রেরিতে বই, পত্র পত্রিকা পড়তে আসেন। অনেকে আবার বাড়িতে বই নিয়ে পড়েন। এতে আমরা আনন্দ পাই। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও তাদের পাঠের সুবিধার্থে লাইব্রেরিতে এসে সহযোগিতা নেন।

 

জগন্নাথপুর শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এনামুল কবির বাসস’কে বলেন-লাইব্রেরিতে সাহিত্যপ্রেমীরা নিয়মিত প্রতি বিষোদবারে (বৃহস্পতিবার) বৈঠক করেন। যেখানে কবি, সাহিত্যিক, গল্পকারসহ সাহিত্যপ্রেমীরা আসেন। ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি’টি একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে।

 

//দেলোয়ার জাহিদ//

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ইত্তেফাক-এ ৪ মে ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে  আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের  একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—“মব ইজ আ রিঅ্যাকশন অব দ্য পিপল।” আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের প্রেক্ষিতে ‘মব’ সহিংসতা বিচারযোগ্য কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী যুক্তি দেন, মব কোনো পদ্ধতিগত বা ব্যাপক পরিকল্পিত অপরাধ নয়; বরং এটি জনগণের প্রতিক্রিয়া, যা সাধারণ আইনের আওতায় বিবেচিত হতে পারে। আরও বলেন, এসব ঘটনাকে বিচার করতে গেলে স্বাধীনতাসংগ্রাম, গণ–অভ্যুত্থান বা বিপ্লবের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার ঝুঁকি তৈরি হবে।

এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও দার্শনিক—দুই স্তরেই গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রশ্ন থেকে যায়: মব কি সত্যিই কেবল জনগণের প্রতিক্রিয়া, নাকি এটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ?

প্রথমত, “মব ইজ আ রিঅ্যাকশন অব দ্য পিপল”—এই ধারণাটি সামাজিক চুক্তি তত্ত্বে প্রোথিত। Jean-Jacques Rousseau-এর “General Will” ধারণা অনুযায়ী, রাষ্ট্র তখনই বৈধ যখন তা জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়। যখন রাষ্ট্র সেই দায়িত্বে ব্যর্থ হয়—বিচারহীনতা, বৈষম্য কিংবা দমন-পীড়নের মাধ্যমে—তখন জনগণের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণই অনেক সময় মব আচরণে রূপ নেয়।

তবে এই ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। Thomas Hobbes মবকে দেখেছিলেন সভ্যতার বিপরীতমুখী শক্তি হিসেবে—যেখানে সমাজ “state of nature”-এ ফিরে যায় এবং “war of all against all” পরিস্থিতি তৈরি হয়। অন্যদিকে John Locke মনে করেন, রাষ্ট্র যদি মানুষের প্রাকৃতিক অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণের প্রতিরোধ ন্যায্য হতে পারে। কিন্তু সেই প্রতিরোধ যখন আইনের সীমা অতিক্রম করে, তখন তা ন্যায়বিচারের বদলে প্রতিশোধে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়—মব একদিকে ন্যায়বিচারের বিলম্বের প্রতিক্রিয়া, অন্যদিকে আইনের শাসনের জন্য হুমকি। অর্থাৎ, এটি নৈতিকভাবে বোধগম্য হলেও রাজনৈতিকভাবে খুবই বিপজ্জনক।

দ্বিতীয়ত, “মব ইজ আ ডিনায়েল অব স্টেটহুড”—এই দৃষ্টিভঙ্গি আরও কাঠামোগত। Max Weber রাষ্ট্রকে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন বৈধ বলপ্রয়োগের একচেটিয়া অধিকারী হিসেবে। যখন রাষ্ট্র এই কর্তৃত্ব কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই শূন্যতা পূরণ করে মব। ফলে মব কেবল জনতার আবেগ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার ভাঙনের সুস্পষ্ট লক্ষণ।

এই ব্যাখ্যায় তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়:

ক্ষমতার শূন্যতা—আইন প্রয়োগের দুর্বলতা
রাষ্ট্রীয় নীরবতা বা পরোক্ষ মদদ
বিচার ও প্রশাসনের প্রতি আস্থার অবক্ষয়

Hannah Arendt দেখিয়েছেন, যেখানে বৈধ ক্ষমতা দুর্বল হয়, সেখানে সহিংসতা বেড়ে যায়। এই দৃষ্টিতে মব হলো একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রের উপসর্গ—“symptom of broken statehood”।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভ্রান্তি দূর করা জরুরি। গণ–অভ্যুত্থান ও বিপ্লবের সাথে মবকে এক কাতারে ফেলা দার্শনিকভাবে সঠিক নয়। গণ–অভ্যুত্থান সাধারণত জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ হলেও, বিপ্লব একটি সংগঠিত ও আদর্শভিত্তিক রূপান্তর প্রক্রিয়া। কিন্তু মব—তা প্রায়শই অনিয়ন্ত্রিত, তাৎক্ষণিক এবং আইনের সীমা অতিক্রমকারী সহিংসতা, যার লক্ষ্য সবসময় ন্যায় প্রতিষ্ঠা নয়।

অতএব, মবকে শুধুমাত্র “জনগণের প্রতিক্রিয়া” হিসেবে বৈধতা দেওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি একে কেবল “রাষ্ট্রের ব্যর্থতা” বলে দায় এড়ানোও অসম্পূর্ণ। বাস্তবতা হলো—মব এই দুইয়েরই সংযোগস্থল। এটি একদিকে জনগণের হতাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে রাষ্ট্রের দুর্বলতা ও অকার্যকারিতার প্রতিফলন।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি নৈতিক বা রাজনৈতিক ব্যাখ্যার চেয়ে বড়—এটি রাষ্ট্রের বৈধতা ও আইনের শাসনের প্রশ্ন। যদি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে মব জন্ম নেবে; কিন্তু যদি মবকে সহনীয় বা বৈধ বলা হয়, তবে রাষ্ট্র নিজেই তার অস্তিত্বের ভিত্তি দুর্বল করে ফেলবে, ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে ।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাই দ্বিমুখী—ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন অটুট রাখা। এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষাই একটি কার্যকর রাষ্ট্রের প্রকৃত পরীক্ষা।

 

//দেলোয়ার জাহিদ //

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাত এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, মান-নিশ্চিতকরণে দুর্বলতা এবং জবাবদিহির ঘাটতির প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিলুপ্ত করে ‘বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন’ গঠনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়; বরং একটি সম্ভাব্য নীতিগত রূপান্তর, যা দেশের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের ভিত্তি হতে পারে।

প্রস্তাবিত কমিশনের র‌্যাংকিং ব্যবস্থা, মানোন্নয়নে তদারকি, এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও একাডেমিক কার্যক্রমে শর্ত নির্ধারণের ক্ষমতা—সবই একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামোর ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে নির্দেশনা অমান্য করলে অর্থায়ন স্থগিত বা প্রোগ্রাম বাতিলের ক্ষমতা জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—এই ক্ষমতার প্রয়োগ কতটা স্বচ্ছ, ন্যায়সংগত এবং রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবমুক্ত থাকবে?

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখায়, উন্নত দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনায় একক কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের বদলে বিকেন্দ্রীভূত, স্বশাসিত ও বহুমাত্রিক কাঠামো কার্যকর হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত কমিশনকে কেবল ক্ষমতাবান করলেই চলবে না; বরং এটিকে হতে হবে স্বাধীন, ডেটা-নির্ভর এবং অংশীজন-সম্পৃক্ত। অন্যথায় এটি ইউজিসির মতোই আরেকটি আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মানোন্নয়ন কেবল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্জন সম্ভব নয়। প্রয়োজন গবেষণা-উদ্ভাবনে বিনিয়োগ, শিল্প-শিক্ষা সংযোগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বিস্তার। প্রস্তাবিত কমিশনের কাঠামোয় এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও ধারাবাহিকতা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

অতএব, উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠন একটি সাহসী পদক্ষেপ হলেও এর সফলতা নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর—প্রথমত, প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা; দ্বিতীয়ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কার্যপ্রণালী; এবং তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি নীতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা। বাংলাদেশ যদি সত্যিই বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে চায়, তবে এই রূপান্তরকে কাগুজে পরিকল্পনার বাইরে এনে কার্যকর বাস্তবতায় রূপ দিতে হবে।

 

দেলোয়ার জাহিদ

মানবাধিকার কর্মী | রাজনৈতিক বিশ্লেষক | গবেষক