Requirements not met

Your browser does not meet the minimum requirements of this website. Though you can continue browsing, some features may not be available to you.


Browser unsupported

Please note that our site has been optimized for a modern browser environment. You are using »an unsupported or outdated software«. We recommend that you perform a free upgrade to any of the following alternatives:

Using a browser that does not meet the minimum requirements for this site will likely cause portions of the site not to function properly.


Your browser either has JavaScript turned off or does not support JavaScript.

If you are unsure how to enable JavaScript in your browser, please visit wikiHow's »How to Turn on Javascript in Internet Browsers«.


Your browser either has Cookies turned off or does not support cookies.

If you are unsure how to enable Cookies in your browser, please visit wikiHow's »How to Enable Cookies in Your Internet Web Browser«.

 

Select Language / ভাষা নির্বাচন:

শীর্ষ সংবাদ

এই বিভাগে

বিজ্ঞাপন

  • Attestation Service from EdmontonOaths Alberta Commissioner of Oaths Services
  •  Bangladesh Heritage and Ethnic Society of Alberta · Promoter of Bangladeshi Culture and Heritage in and around Edmonton
  • Document Preparation Service from EdmontonOaths Alberta Commissioner of Oaths Services
  • R.S. Jeweler's in Bangladesh
  • Legal Witnessing Service from EdmontonOaths Alberta Commissioner of Oaths Services
  • Celebration of Mother Language, Culture and Heritage at MotherLanguageDay.ca
  • Samajkantha Online Inc. · The Voice of Society · Bengali online news magazine

Bengali Fonts

You need to install at least one Bengali font to read or write Bengali.

We offer a .ZIP-File true type font for download. Read the following installation instructions to see how to install the font.

অর্থনীতি

জাহাজ ভাঙা শিল্প: অর্থনীতি, মানবিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যতের সন্ধানে

//দেলোয়ার জাহিদ//

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রথম হংকং কনভেনশনসম্মত গ্রিন শিপইয়ার্ড PHP Ship Breaking and Recycling Industries পরিদর্শনকালে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত Dr. Rüdiger Lotz বাংলাদেশের জাহাজভাঙা শিল্পকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে—বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এ শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। একই সঙ্গে তিনি শ্রমিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

জার্মান রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয় না; এটি আমাদের সামনে এক গভীর মানবিক ও নৈতিক প্রশ্নও উত্থাপন করে। শৈশবে রুশ সাহিত্যিক Maxim Gorky-এর আত্মজীবনী ও সাহিত্যকর্ম আমাকে গভীরভাবে আলোড়িত করেছিল। গোর্কির লেখায় শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম, দুঃখ, বঞ্চনা এবং স্বপ্নের যে মানবিক উপস্থাপন দেখা যায়, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি বিশ্বাস করতেন, সাহিত্যের প্রকৃত শক্তি মানুষের বাস্তব জীবন থেকে উৎসারিত হয়। তাই সমাজের অবহেলিত ও পরিশ্রমী মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা শুধু সাহিত্যিক দায়িত্ব নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতারও অংশ। বাংলাদেশের জাহাজভাঙা শিল্পের শ্রমিকদের জীবন, ঝুঁকি, সংগ্রাম এবং স্বপ্নও সেই বৃহত্তর মানবিক বাস্তবতারই অংশ।

জাহাজ ভাঙা শিল্প, বা শিপ রিসাইক্লিং শিল্প, বৈশ্বিক সামুদ্রিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। পুরোনো ও অকেজো জাহাজ ভেঙে ইস্পাত, যন্ত্রপাতি ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সংগ্রহের মাধ্যমে এই শিল্প বিশ্বব্যাপী নির্মাণ ও উৎপাদন খাতকে সহায়তা করে। প্রাচীনকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ পুনর্ব্যবহারের প্রথা থাকলেও আধুনিক শিল্পভিত্তিক জাহাজ ভাঙার সূচনা ঘটে উনবিংশ শতকের শেষভাগে, যখন ইস্পাতনির্ভর জাহাজ নির্মাণ শিল্পের বিকাশ ঘটে। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও জাপানের মতো শিল্পোন্নত দেশগুলো এই শিল্পে নেতৃত্ব দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিপুল সংখ্যক সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ ভেঙে পুনর্গঠন ও শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ইস্পাত সংগ্রহ করা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে উচ্চ শ্রম ব্যয়, কঠোর পরিবেশ আইন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সস্তা শ্রমশক্তির কারণে জাহাজ ভাঙার শিল্প ধীরে ধীরে পশ্চিমা বিশ্ব থেকে এশিয়ায় স্থানান্তরিত হয়। প্রথমে তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়া গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে; পরে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান এই শিল্পের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। দীর্ঘ উপকূলরেখা, কম পরিচালন ব্যয় এবং স্ক্র্যাপ ইস্পাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এই দেশগুলোকে বৈশ্বিক শিপ রিসাইক্লিং শিল্পে শক্তিশালী অবস্থান এনে দেয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ১৯৬০-এর দশকে একটি গ্রিক জাহাজ ভেঙে ফেলার মধ্য দিয়েই এ শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এই শিল্প দেশের ইস্পাত চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করছে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। ভারতের আলাং এবং পাকিস্তানের গাদানি শিপইয়ার্ডও বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। তবে অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি এই শিল্প দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণ, বিপজ্জনক বর্জ্য এবং শ্রমিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে সমালোচিত হয়েছে। পুরোনো জাহাজে থাকা অ্যাসবেস্টস, ভারী ধাতু ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ শ্রমিক ও উপকূলীয় পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

এই প্রেক্ষাপটে International Maritime Organization ২০০৯ সালে হংকং কনভেনশন প্রণয়ন করে, যার লক্ষ্য নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত জাহাজ পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা। বর্তমানে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বাস্তবায়ন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, গ্রিন শিপইয়ার্ড প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। PHP Ship Breaking and Recycling Industries-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিবেশসম্মত অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ১৪ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে। এটি প্রমাণ করে যে শিল্পটি এখন ধীরে ধীরে টেকসই উন্নয়ন ও মানবিক দায়বদ্ধতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী পুরোনো জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি, পুনর্ব্যবহারের চাহিদা এবং প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের কারণে ভবিষ্যতে জাহাজ ভাঙা শিল্পের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং পরিবেশ-নিয়ন্ত্রিত ড্রাই-ডক পদ্ধতির ব্যবহার এই শিল্পকে আরও নিরাপদ ও দক্ষ করে তুলতে পারে। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের পাশাপাশি শ্রমিকের জীবন, স্বাস্থ্য, ন্যায্য মজুরি এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, কোনো শিল্পের প্রকৃত সাফল্য শুধু মুনাফায় নয়, মানুষের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত।

 

ঢাকা, ৭ মে, ২০২৬ (বাসস): বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশকে আগামী দিনের প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা কমানো, লজিস্টিক ব্যয় হ্রাস, বন্দর ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, ‘পুরোনো সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকলে সামনে এগোনো যাবে না। এখন সময় বাস্তবভিত্তিক সংস্কার ও প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন।’

আজ রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে একটি ব্যবসা শুরু করতে উদ্যোক্তাদের প্রায় ২৫ থেকে ২৬ ধরনের অনুমোদন ও লাইসেন্স নিতে হয়, যা ব্যবসা পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে। এ অবস্থায় সরকার ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজীকরণে কাজ করছে।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করলেই প্রাথমিকভাবে একটি ‘প্রভিশনাল ক্লিয়ারেন্স’ দেওয়া হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে পারেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার ঘাটতির কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশ পিছিয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিদেশি অপারেটরদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। 

ইতোমধ্যে একটি ড্যানিশ কোম্পানি কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় কাজ শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানকে বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে রয়েছে। এই বাস্তবতায় সাময়িক সমাধানের সুযোগ নেই। টেকসই সংস্কার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহু বড় শিল্পকারখানা বছরের পর বছর অলস বা লোকসানি অবস্থায় পড়ে আছে, যা সরকারের ওপর বিপুল ভর্তুকির চাপ সৃষ্টি করছে।

তিনি জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৪০টি এবং বস্ত্র ও পাট খাতের অধীনে আরও প্রায় ৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিপুল ভূমি ও সম্পদকে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে সরকার ধাপে ধাপে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করছে।

তিনি বলেন, ‘আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এসব অলস শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য। কোথাও আধুনিকায়ন হবে, কোথাও নতুন শিল্প গড়ে উঠবে, আবার কোথাও রপ্তানিমুখী উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি চিনিকল গড়ে এক হাজার বিঘা বা তার বেশি জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এসব স্থানে আধুনিক শিল্প পার্ক বা বহুমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে বিপুল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সরকারের রাজস্ব আয় সৃষ্টি সম্ভব হবে।

প্যাকেজিং শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্যাকেজিং শিল্পের বাজার অত্যন্ত বড় এবং বাংলাদেশকে এই খাতে বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।

তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘ছোট করে চিন্তা করলে বড় জায়গায় পৌঁছানো যায় না। সরকার নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে, তবে শিল্পের প্রবৃদ্ধি ঘটাতে হবে উদ্যোক্তাদেরই।’

তিনি আরও বলেন, সরকার চায় দেশীয় শিল্পের বিকাশ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শক্ত অবস্থান এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হোক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ।

অনুষ্ঠানে প্যাকেজিং শিল্প সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী নেতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈষম্য হ্রাস এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ২১ দফা প্রাক-বাজেট প্রস্তাব দিয়েছে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)। 

আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট দৌলত আকতার মালা।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের  সচিব নাজমা মোবারেক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের  গভর্নর  মো. মোস্তাকুর রহমান, ডেপুটি  গভর্নর হাবিবুর রহমানসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

এ ছাড়াও আলোচনা সভায় ইআরএফের সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম. সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, অথ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষোদের সদস্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। 

বাজেট প্রস্তাবে ইআরএফ বলেছে, অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা জরুরি। এলডিসি গ্রাজুয়েশন সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় না থাকলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বা সরকারি ব্যয় সংকোচন যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ইআরএফ বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার, সরবরাহ চেইনে সিন্ডিকেট ভাঙা এবং চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে লাভের সীমা নির্ধারণ করে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ওপেন মার্কেট সেল কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় এসব উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

ইআরএফ উল্লেখ করে, অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ও ভর্তুকির চাপে সরকারের পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, অথচ উন্নয়ন ব্যয় কাক্সিক্ষত হারে বাড়ছে না। তাই পরিচালন খাতে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ে বরাদ্দ বাড়ানো এবং পুঁজিবাজার শক্তিশালী করে নতুন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিভাগীয় শহরগুলোতে উচ্চমানের হাসপাতাল স্থাপন এবং চিকিৎসা ব্যয় কমানোর সুপারিশ করেছে ইআরএফ। সংগঠনটি জানায়, দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ জনগণকে নিজ খরচে বহন করতে হয়, যা অনেককে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা ও শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

এছাড়া সরকার ঘোষিত বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচির স্পষ্ট রূপরেখা বাজেটে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে ইআরএফ বলেছে, কোন খাতে কী ধরনের সংস্কার হবে এবং তার সম্ভাব্য প্রভাব কীÑতা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন।

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি ও যুগোপযোগী শিক্ষার প্রসার, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার এবং মিড-লেভেল ম্যানেজমেন্টে দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এলডিসি উত্তরণকে সামনে রেখে বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বাড়ানো, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রাজস্ব নীতিতে পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত এবং ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি শুল্ক কমানোর কথাও বলা হয়েছে।

এসএমই খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য সহায়ক আর্থিক ও রাজস্ব নীতি প্রণয়নের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা, ট্রান্সফার প্রাইসিং আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার মাধ্যমে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুপারিশ করেছে ইআরএফ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণ বন্ধ এবং বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মেধা ও দক্ষতার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ক্লাস্টার সিস্টেম চালু এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নে পৃথক তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব খাতে সংস্কারের অংশ হিসেবে কর নেট সম্প্রসারণ, প্যাকেজ ভ্যাট পুনর্বহাল, কর ছাড়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ডাটাবেজের সঙ্গে ব্যাংকিং তথ্য সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

 

সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা উপকরণের কর হার কম রাখা, সঞ্চয়ে উৎসাহ প্রদান এবং কর ফেরত সহজ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া বাজেট ঘোষণার সময় পরিবর্তন করে দিনের প্রথম ভাগে আনা, নীতির প্রভাব বিশ্লেষণে গবেষণা জোরদার এবং অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

 

ইআরএফ মনে করে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কমবে এবং অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত হবে।

 

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি রোধে এনবিআরের ডাটাবেজ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একটি ‘গেম-চেঞ্জার’ ভূমিকা পালন করতে পারে।

 

 

 

 

সংসদ ভবন, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং বিশ্বমঞ্চে উন্নত ও মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সরকারের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

 

তিনি বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় একটি টেকসই, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা এবং বিশ্বে উন্নত ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।’

 

অর্থমন্ত্রী আজ জাতীয় সংসদে চলতি অর্থবছর (২০২৫-২৬)-এর বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন (দ্বিতীয় প্রান্তিক) উপস্থাপনকালে এ কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

তিনি জানান, অর্থনীতিকে উদারীকরণ ও নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা, ব্যবসা সহজীকরণ এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষতা ও প্রযুক্তি নির্ভর উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং দেশি-বিদেশি নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করার মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।’

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন জোরদার, খেলাপি ঋণ কমানো এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘এসব পদক্ষেপ আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা বাড়াবে, যা দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করবে।’ 

 

অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে স্বাধীনতার চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন ধারণ করে এবং জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ও নেতৃত্বের প্রেরণায় দেশ সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে সক্ষম হবে।

 

তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্ব ও দূরদর্শী কর্মসূচি এই অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে। 

 

তিনি আরও বলেন, একটি সহনশীল, সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে ধারাবাহিক সংস্কার, কার্যকর সুশাসন এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর পূর্বাভাস তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকবে এবং ২০২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা মধ্যমেয়াদে প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে।

 

তিনি বলেন, উদীয়মান ও উন্নয়নশীল এশীয় অর্থনীতিগুলো প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে এগিয়ে থাকবে, অন্যদিকে উন্নত অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় ১.৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

 

তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে ৮.৭ শতাংশে পৌঁছানো বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৫ সালে ৪.২ শতাংশে এবং ২০২৬ সালে ৩.৮ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস রয়েছে। চীন ও ভারতের মতো প্রধান আমদানিকারক দেশের মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে থাকায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যচাপ কিছুটা কমতে পারে।

 

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এই ইতিবাচক পূর্বাভাসকে ব্যাহত করতে পারে।

 

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ০.৯ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি প্রায় ১ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। ইতোমধ্যে জ্বালানি ও সারমূল্য বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

 

দেশীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (জুলাইু-ডিসেম্বর) রাজস্ব আহরণ ১৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪.৭ শতাংশ। সরকারি ব্যয় বেড়েছে ১৪.১ শতাংশ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মোট বরাদ্দের ১৩.৫৬ শতাংশ।

 

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩.১৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৬.২২ বিলিয়ন ডলার।

 

ছবি: সংগৃহীত

 

মন্ত্রী আরও বলেন, মূল্যস্ফীতির হার নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৭৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এক বছর আগে ছিল ১০.৩৪ শতাংশ।

 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, সাশ্রয়ী সরকারি ব্যয় এবং সহায়ক রাজস্ব নীতির মাধ্যমে চলতি অর্থবছরের শেষে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

 

আগামীতে মূল্যস্ফীতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭.৫ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৬.৫ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৬ শতাংশে নামার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে সুরক্ষাবাদ, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও রাজস্ব আহরণে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। এসব মোকাবিলায় সরকার বিনিয়োগ ও রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি কৌশলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। 

 

তিনি বলেন, ‘নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করা, জমি ও জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর অধীনে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ডিজিটাল ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

 

আর্থিক খাতে সুশাসন জোরদার, খেলাপি ঋণ কমানো এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি চালুর সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

 

অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বৃহৎ ও কর্মক্ষম জনশক্তি এবং সম্প্রসারিত শিল্প সক্ষমতার মতো দেশের শক্তিশালী ভিত্তি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেবে