Requirements not met

Your browser does not meet the minimum requirements of this website. Though you can continue browsing, some features may not be available to you.


Browser unsupported

Please note that our site has been optimized for a modern browser environment. You are using »an unsupported or outdated software«. We recommend that you perform a free upgrade to any of the following alternatives:

Using a browser that does not meet the minimum requirements for this site will likely cause portions of the site not to function properly.


Your browser either has JavaScript turned off or does not support JavaScript.

If you are unsure how to enable JavaScript in your browser, please visit wikiHow's »How to Turn on Javascript in Internet Browsers«.


Your browser either has Cookies turned off or does not support cookies.

If you are unsure how to enable Cookies in your browser, please visit wikiHow's »How to Enable Cookies in Your Internet Web Browser«.

 

Select Language / ভাষা নির্বাচন:

শীর্ষ সংবাদ

এই বিভাগে

বিজ্ঞাপন

  • Attestation Service from EdmontonOaths Alberta Commissioner of Oaths Services
  •  Bangladesh Heritage and Ethnic Society of Alberta · Promoter of Bangladeshi Culture and Heritage in and around Edmonton
  • Document Preparation Service from EdmontonOaths Alberta Commissioner of Oaths Services
  • R.S. Jeweler's in Bangladesh
  • Legal Witnessing Service from EdmontonOaths Alberta Commissioner of Oaths Services
  • Celebration of Mother Language, Culture and Heritage at MotherLanguageDay.ca
  • Samajkantha Online Inc. · The Voice of Society · Bengali online news magazine

Bengali Fonts

You need to install at least one Bengali font to read or write Bengali.

We offer a .ZIP-File true type font for download. Read the following installation instructions to see how to install the font.

অর্থনীতি

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈষম্য হ্রাস এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ২১ দফা প্রাক-বাজেট প্রস্তাব দিয়েছে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)। 

আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট দৌলত আকতার মালা।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের  সচিব নাজমা মোবারেক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের  গভর্নর  মো. মোস্তাকুর রহমান, ডেপুটি  গভর্নর হাবিবুর রহমানসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

এ ছাড়াও আলোচনা সভায় ইআরএফের সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম. সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, অথ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষোদের সদস্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। 

বাজেট প্রস্তাবে ইআরএফ বলেছে, অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা জরুরি। এলডিসি গ্রাজুয়েশন সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় না থাকলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বা সরকারি ব্যয় সংকোচন যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ইআরএফ বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার, সরবরাহ চেইনে সিন্ডিকেট ভাঙা এবং চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে লাভের সীমা নির্ধারণ করে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ওপেন মার্কেট সেল কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় এসব উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

ইআরএফ উল্লেখ করে, অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ও ভর্তুকির চাপে সরকারের পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, অথচ উন্নয়ন ব্যয় কাক্সিক্ষত হারে বাড়ছে না। তাই পরিচালন খাতে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ে বরাদ্দ বাড়ানো এবং পুঁজিবাজার শক্তিশালী করে নতুন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিভাগীয় শহরগুলোতে উচ্চমানের হাসপাতাল স্থাপন এবং চিকিৎসা ব্যয় কমানোর সুপারিশ করেছে ইআরএফ। সংগঠনটি জানায়, দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ জনগণকে নিজ খরচে বহন করতে হয়, যা অনেককে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা ও শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

এছাড়া সরকার ঘোষিত বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচির স্পষ্ট রূপরেখা বাজেটে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে ইআরএফ বলেছে, কোন খাতে কী ধরনের সংস্কার হবে এবং তার সম্ভাব্য প্রভাব কীÑতা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন।

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি ও যুগোপযোগী শিক্ষার প্রসার, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার এবং মিড-লেভেল ম্যানেজমেন্টে দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এলডিসি উত্তরণকে সামনে রেখে বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বাড়ানো, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রাজস্ব নীতিতে পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত এবং ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি শুল্ক কমানোর কথাও বলা হয়েছে।

এসএমই খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য সহায়ক আর্থিক ও রাজস্ব নীতি প্রণয়নের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা, ট্রান্সফার প্রাইসিং আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার মাধ্যমে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুপারিশ করেছে ইআরএফ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণ বন্ধ এবং বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মেধা ও দক্ষতার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ক্লাস্টার সিস্টেম চালু এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নে পৃথক তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব খাতে সংস্কারের অংশ হিসেবে কর নেট সম্প্রসারণ, প্যাকেজ ভ্যাট পুনর্বহাল, কর ছাড়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ডাটাবেজের সঙ্গে ব্যাংকিং তথ্য সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

 

সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা উপকরণের কর হার কম রাখা, সঞ্চয়ে উৎসাহ প্রদান এবং কর ফেরত সহজ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া বাজেট ঘোষণার সময় পরিবর্তন করে দিনের প্রথম ভাগে আনা, নীতির প্রভাব বিশ্লেষণে গবেষণা জোরদার এবং অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

 

ইআরএফ মনে করে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কমবে এবং অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত হবে।

 

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি রোধে এনবিআরের ডাটাবেজ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একটি ‘গেম-চেঞ্জার’ ভূমিকা পালন করতে পারে।

 

 

 

 

সংসদ ভবন, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং বিশ্বমঞ্চে উন্নত ও মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সরকারের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

 

তিনি বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় একটি টেকসই, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা এবং বিশ্বে উন্নত ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।’

 

অর্থমন্ত্রী আজ জাতীয় সংসদে চলতি অর্থবছর (২০২৫-২৬)-এর বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন (দ্বিতীয় প্রান্তিক) উপস্থাপনকালে এ কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

তিনি জানান, অর্থনীতিকে উদারীকরণ ও নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা, ব্যবসা সহজীকরণ এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষতা ও প্রযুক্তি নির্ভর উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং দেশি-বিদেশি নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করার মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।’

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন জোরদার, খেলাপি ঋণ কমানো এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘এসব পদক্ষেপ আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা বাড়াবে, যা দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করবে।’ 

 

অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে স্বাধীনতার চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন ধারণ করে এবং জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ও নেতৃত্বের প্রেরণায় দেশ সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে সক্ষম হবে।

 

তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্ব ও দূরদর্শী কর্মসূচি এই অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে। 

 

তিনি আরও বলেন, একটি সহনশীল, সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে ধারাবাহিক সংস্কার, কার্যকর সুশাসন এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর পূর্বাভাস তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকবে এবং ২০২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা মধ্যমেয়াদে প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে।

 

তিনি বলেন, উদীয়মান ও উন্নয়নশীল এশীয় অর্থনীতিগুলো প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে এগিয়ে থাকবে, অন্যদিকে উন্নত অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় ১.৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

 

তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে ৮.৭ শতাংশে পৌঁছানো বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৫ সালে ৪.২ শতাংশে এবং ২০২৬ সালে ৩.৮ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস রয়েছে। চীন ও ভারতের মতো প্রধান আমদানিকারক দেশের মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে থাকায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যচাপ কিছুটা কমতে পারে।

 

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এই ইতিবাচক পূর্বাভাসকে ব্যাহত করতে পারে।

 

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ০.৯ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি প্রায় ১ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। ইতোমধ্যে জ্বালানি ও সারমূল্য বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

 

দেশীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (জুলাইু-ডিসেম্বর) রাজস্ব আহরণ ১৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪.৭ শতাংশ। সরকারি ব্যয় বেড়েছে ১৪.১ শতাংশ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মোট বরাদ্দের ১৩.৫৬ শতাংশ।

 

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩.১৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৬.২২ বিলিয়ন ডলার।

 

ছবি: সংগৃহীত

 

মন্ত্রী আরও বলেন, মূল্যস্ফীতির হার নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৭৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এক বছর আগে ছিল ১০.৩৪ শতাংশ।

 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, সাশ্রয়ী সরকারি ব্যয় এবং সহায়ক রাজস্ব নীতির মাধ্যমে চলতি অর্থবছরের শেষে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

 

আগামীতে মূল্যস্ফীতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭.৫ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৬.৫ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৬ শতাংশে নামার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে সুরক্ষাবাদ, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও রাজস্ব আহরণে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। এসব মোকাবিলায় সরকার বিনিয়োগ ও রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি কৌশলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। 

 

তিনি বলেন, ‘নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করা, জমি ও জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর অধীনে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ডিজিটাল ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

 

আর্থিক খাতে সুশাসন জোরদার, খেলাপি ঋণ কমানো এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি চালুর সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

 

অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বৃহৎ ও কর্মক্ষম জনশক্তি এবং সম্প্রসারিত শিল্প সক্ষমতার মতো দেশের শক্তিশালী ভিত্তি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেবে

 

বিপজ্জনক এক ক্রসরোডে বাংলাদেশ: অন্তহীন সংঘর্ষ নাকি দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা, কি রয়েছে জাতির ভাগ্যে ?
মুক্তিযোদ্ধা ও মানবাধিকার এডভোকেট দেলোয়ার জাহিদের একটি সাক্ষাৎকার


দেলোয়ার জাহিদ, একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান, একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, মানবাধিকার আইনজীবী এবং সাংবাদিক। তিনি বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো এবং ইউরোপীয় মিডিয়া এবং একাডেমিয়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত একজন বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী। ২০০৩ সাল থেকে, জাহিদ ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট পলস কলেজে কাজ করেছেন এবং প্রফেসর ড. ডিন ই. পিচির সাথে কানাডার কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন নেটওয়ার্কের সহ-প্রতিষ্ঠার সাথেও গবেষণা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গবেষণা, "সালিস - দ্য রুরাল মেডিয়েশন অফ বাংলাদেশ" আন্তর্জাতিক প্রকাশনায়  রেফারেন্স হয়েছে , এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে ক্রান্তিকালীন বিচার এবং মানবাধিকার সংস্কারের পক্ষে একজন উকিল ছিলেন, ফাদার আরডব্লিউ টিম এবং বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেনের  মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি আন্দোলনে অবদান রেখেছিলেন। । বর্তমানে, তিনি বাংলাদেশ নর্থ আমেরিকান জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি এবং কানাডার ম্যানিটোবার জন হাওয়ার্ড সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদে ও দায়িত্ব পালন করছেন। এই সাক্ষাত্কারে, তিনি বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রভাব সম্পর্কে তার অন্তর্দৃষ্টি শেয়ার করেছেন।

প্রশ্ন: আপনি কি বাংলাদেশের ছাত্র-রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিতে পারেন যা ৫ আগস্ট বিপ্লবের দিকে পরিচালিত করে? কোন অভিযোগ জনগণকে সংগঠিত করেছিল এবং দেশের ভবিষ্যতের জন্য এর অর্থ কী হতে পারে?

দেলোয়ার জাহিদ: বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট ছাত্র আন্দোলন সাম্যের জন্য একটি নজিরবিহীন ধাক্কা। কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলন হিসাবে যা শুরু হয়েছিল - কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের দ্বারা গঠিত একটি অরাজনৈতিক ফ্রন্ট - দ্রুত একটি বিস্তৃত অসহযোগ আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল যা শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থন অর্জন করেছিল। সক্রিয়তার এই তরঙ্গ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর চাপ সহ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলো অনুঘটক করেছেন, যিনি শেষ পর্যন্ত দেশ ত্যাগ করেছিলেন।

আন্দোলনের লক্ষ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ন্যায্যতা এবং ন্যায়বিচারের অগ্রগতির মধ্যে নিহিত। এর মূলে, এটি সমস্ত ধরণের বৈষম্য দূর করার চেষ্টা করে, পটভূমি নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করে। ছাত্ররা বর্ণবাদ, লিঙ্গবাদ এবং বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, তাদের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার জন্য ব্যাপক প্রতিবাদ ব্যবহার করেছে। ৫ আগস্টের এই পরিবর্তনটি শুধুমাত্র অবিলম্বে সংস্কারের জন্য একটি ধাক্কাই নয় বরং কেন্দ্রীয় নীতি হিসাবে সমস্ত ছাত্রদের জন্য সমতা সহ বাংলাদেশে স্থায়ী সামাজিক রূপান্তরের দিকে একটি পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে।

প্রশ্ন: সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় কি সাংবিধানিক কাঠামো ছিল?

দেলোয়ার জাহিদ: বাংলাদেশ সাংবিধানিকভাবে একটি সংসদীয় গণতন্ত্র হিসাবে গঠিত, যা শাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট শ্রেণিবিন্যাস এবং প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে। রাষ্ট্রপতি হলেন আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান, যা প্রতি পাঁচ বছর অন্তর জাতীয় সংসদ (জাতীয় সংসদ) দ্বারা নির্বাচিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী - রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন - নির্বাহী নেতা এবং সরকার প্রধান। এই কাঠামোটি শাখা জুড়ে চেক এবং ভারসাম্যের রূপরেখা দেয়, তবুও দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলি এর স্থিতিশীলতা সম্পর্কে সমালোচনামূলক প্রশ্ন উত্থাপন করে।

উত্তরণের সময়, সাংবিধানিক নিয়ম গুলো কীভাবে বজায় রাখা হয়েছে, বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন এবং নির্বাহী ক্ষমতা গুলির ভূমিকা সম্পর্কে অস্পষ্টতা ছিল। এগিয়ে যাওয়া, এই অন্তর্বর্তীকালীন শাসন কাঠামোর ভবিষ্যৎ সম্ভবত স্বচ্ছ প্রশাসন, সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক নীতিগুলিকে সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতির উপর নির্ভর করবে।

বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনি কাঠামোর অধীনে ইউনূসের সরকারের বৈধতা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান। বাংলাদেশে যে কোনো সরকার গঠনের জন্য ১৯৭২ সালে প্রবর্তিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কঠোর ভাবে আনুগত্য করা প্রয়োজন। এই সংবিধান বৈধতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য সুস্পষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণ করে যা জনগণের ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে- পদক্ষেপ যা এই উদাহরণে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে, এই সরকারের বৈধতা ঘিরে প্রশ্ন তীব্রতর হয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে, রাজনৈতিক সংকটের সময়ে, বাংলাদেশ নির্বাচন তত্ত্বাবধানের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়োগ করেছে। যাইহোক, ১৫ তম সংশোধনীর মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটি ২০১১ সালে বিলুপ্ত করা হয়েছিল, একটি বিতর্কিত পদক্ষেপ যা অনেক রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, এটি পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে। এই সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে সরকারি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নীতিগুলোকে ক্ষুন্ন করে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৪) অন্তর্বর্তী সরকারের পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, দাবি করেন যে এটি জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল, উল্লেখ করে যে "জনগণের অংশগ্রহণ না থাকলে কোনো সংস্কার টেকসই হবে না।" ফখরুল যুক্তি দিয়েছিলেন যে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার মতো সিদ্ধান্তগুলি প্রাথমিকভাবে "অন্ধকারের শক্তিগুলিকে" উপকৃত করবে এবং পরামর্শ দিয়েছিল যে সরকারকে শাসন সংস্কারের বিষয়ে জনগণের অনুভূতি নির্ধারণের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের সাথে পরামর্শ করা উচিত। ২১শে সেপ্টেম্বর, ফখরুল আরও এগিয়ে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আনার জন্য প্রয়োজনীয় "বিপ্লবী" সরকার চালনার অভাব বলে বর্ণনা করেন এবং জোর দেন যে "জনগণের ইচ্ছা অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত।"

৩১শে অক্টোবর, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ফেসবুক মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে একটি সমালোচনামূলক পোস্ট প্রকাশ করেন, তাকে "ক্ষমতা দখলের" দায়ে অভিযুক্ত করেন এবং তাকে "বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফ্যাসিবাদী" হিসেবে বর্ণনা করেন। জয় জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে ক্ষুন্ন বা নিষিদ্ধ করা হবে না। তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর কথিত বিধিনিষেধের জন্য ইউনূসের সরকারের সমালোচনা করেন, যা অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের সমান্তরাল আঁকেন।

পথ এগিয়ে---এই সরকারের ভবিষ্যত বৈধতা অনিশ্চিত, রাজনৈতিক বিভাজন এবং শাসন অস্থিতিশীলতার চ্যালেঞ্জ এ জর্জরিত। মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধ এবং স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিদের সম্ভাব্য পুনর্বাসন নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে সংস্কারের নামে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও সাংবিধানিক নীতিমালা সহ প্রস্তাবিত পরিবর্তন চলমান রাজনৈতিক আগুনে ইন্ধন যোগাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান বিরোধিতা এবং অমীমাংসিত বৈধতার সমস্যাগুলির সাথে লড়াই করার কারণে এই সরকারের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ রয়ে গেছে।

উপসংহারে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ শাসনের বৈধতা, সাংবিধানিক আনুগত্য এবং দেশের ভবিষ্যত গঠনে জনগণের অংশগ্রহণের ভূমিকা সম্পর্কে গভীর-উপস্থিত উদ্বেগের কথা তুলে ধরে। আইন বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক নেতারা কিভাবে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে সমালোচনামূলক প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ করে সাংবিধানিক প্রয়োজনীয়তা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্থানের আলোকে। দেশ যখন এই সমস্যাগুলির সাথে মোকাবিলা করছে, প্রকৃত গণতান্ত্রিক সম্পৃক্ততার আহ্বান এবং সাংবিধানিক নীতিগুলো ফিরে আসার আহ্বান আরও জোরে বাড়ে৷ এই সময়কালটি সম্ভবত বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হবে, কারণ এর নেতারা রাজনৈতিক বিভাজন পুনর্মিলনী, গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে সম্মান করা এবং জনগণের ইচ্ছাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চ্যালেঞ্জিং কিন্তু অপরিহার্য কাজের মুখোমুখি হচ্ছেন। সরকার কীভাবে এই পথটি নেভিগেট করতে বেছে নেয় তা কেবল তার উত্তরাধিকার নয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ গতি পথ কে সংজ্ঞায়িত করবে।

সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী এম. রহমান

 

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ (বাসস) : বিশ্বের বৃহত্তম হালাল শোকেস হিসেবে পরিচিত মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক হালাল শোকেস-এর ২০তম আসরে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ।

আজ ঢাকায় এক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, কুয়ালালামপুরে অবস্থিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এন্ড এক্সিবিশন সেন্টারে  (এমআইটিইসি) ১৭-২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত চার দিনব্যাপী  এ আসরে খাদ্য ও পানীয়, মডেস্ট ফ্যাশন, ই-কমার্স, ইসলামিক ফিন্যান্স ও ফিনটেকসহ মোট ১৫টি ক্লাস্টারে ১০০০ এর অধিক বুথের মাধ্যমে বিশ্বের ৪৫টি দেশ এই মেলায় অংশগ্রহণ করেছে। মালয়েশিয়ার মিনিস্ট্রি অব ইনভেস্টমেন্ট, ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং মালয়েশিয়া এক্সটারনাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (মেট্রেড) এই মেলার আয়োজন করে। এই মেলায় মালয়েশিয়ার হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন বারাহাদ (এইচডিসি) জিইসি ডেভেলপমেন্ট অব ইসলামিক  ডেভেলপমেন্ট অব মালয়েশিয়া (জেএকেআইএম) সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে।

এই মেলায় বাংলাদেশের ৫ টি শিল্প প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। খাদ্য ও পানীয়, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ব্যবসায়িক চেম্বার এসব ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে নওরিস ফুডস লিমিটেড, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, প্রাণ ফুডস, কে.এম.আর ক্রাফ্ট (লেদার গুডস) এবং মালয়েশিয়া -বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ মেলায় অংশগ্রহণ করে। মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে নেটওয়ার্কিং, বিজনেস ম্যাচমেকিংসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে।

আজ মেলার সমাপনী দিনে মেলা ও বাংলাদেশী স্টল পরিদর্শন করেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোঃ শামীম আহসান। তিনি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে মালয়েশিয়ায় তাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন পরামর্শ দেন এবং হাইকমিশনের পক্ষ হতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় মেট্রেড চেয়ারম্যান দাতো সেরি রিজাল মেরিকান নেইনা মেরিকান , প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতুক মোহাম্মদ মুস্তফা আব্দুল আজিজ,ইভেন্ট প্রতিষ্ঠান কুবে ইনটিগ্রেটেড মালয়েশিয়ার পরিচালক (বিজনেস ইভেন্টস) ইউনিস লতিফ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর (কনস্যুলার) মোঃ মোরশেদ আলম, প্রথম সচিব (প্রেস) সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ, প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) প্রণব কুমার ঘোষসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রবাসী বাংলাদেশীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের হাইকমিশনার শামীম আহসান জানান, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে হাইকমিশন বাংলাদেশী  পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণসহ অন্যান্য পরিকল্পনা নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।  হালাল পণ্যের বাণিজ্য একটি ক্রমবর্ধমান সেক্টর । সাম্প্রতিক সময়ে হালাল পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় হালাল বাণিজ্যের পরিমাণও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বের ৩য় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও হালাল পণ্য বাণিজ্যে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। মালয়েশিয়া হালাল বাণিজ্যে বিগত ১০ বছর ধরে শীর্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে।