Requirements not met

Your browser does not meet the minimum requirements of this website. Though you can continue browsing, some features may not be available to you.


Browser unsupported

Please note that our site has been optimized for a modern browser environment. You are using »an unsupported or outdated software«. We recommend that you perform a free upgrade to any of the following alternatives:

Using a browser that does not meet the minimum requirements for this site will likely cause portions of the site not to function properly.


Your browser either has JavaScript turned off or does not support JavaScript.

If you are unsure how to enable JavaScript in your browser, please visit wikiHow's »How to Turn on Javascript in Internet Browsers«.


Your browser either has Cookies turned off or does not support cookies.

If you are unsure how to enable Cookies in your browser, please visit wikiHow's »How to Enable Cookies in Your Internet Web Browser«.

 

Select Language / ভাষা নির্বাচন:

শীর্ষ সংবাদ

এই বিভাগে

বিজ্ঞাপন

  • Attestation Service from EdmontonOaths Alberta Commissioner of Oaths Services
  •  Bangladesh Heritage and Ethnic Society of Alberta · Promoter of Bangladeshi Culture and Heritage in and around Edmonton
  • Document Preparation Service from EdmontonOaths Alberta Commissioner of Oaths Services
  • R.S. Jeweler's in Bangladesh
  • Legal Witnessing Service from EdmontonOaths Alberta Commissioner of Oaths Services
  • Celebration of Mother Language, Culture and Heritage at MotherLanguageDay.ca
  • Samajkantha Online Inc. · The Voice of Society · Bengali online news magazine

Bengali Fonts

You need to install at least one Bengali font to read or write Bengali.

We offer a .ZIP-File true type font for download. Read the following installation instructions to see how to install the font.

সম্পাদকীয়

 

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পরিমাণগত সম্প্রসারণ ঘটলেও গুণগত মান, গবেষণা সক্ষমতা এবং কর্মমুখী দক্ষতায় স্পষ্ট ঘাটতি রয়ে গেছে। ফলে উচ্চশিক্ষা কাঠামোকে আধুনিক, গবেষণাভিত্তিক ও দক্ষতাকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তর এখন আর বিলম্ব সহ্য করে না। 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে নীতিগত সীমাবদ্ধতার চেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সুশাসন এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতা। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের শক্তিশালী ঐতিহ্য থাকলেও বাস্তব প্রয়োগের সাথে তার সংযোগ দুর্বল। এর ফলেই শিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ কর্মবাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।


 

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পথে আমার যাত্রায় মানবাধিকার, শিক্ষা, মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদ, এবং সংঘাত নিরসন বিষয়ে আমি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি—St. Paul's College, University of Manitoba (২০০২–২০১০), University of Vigo (২০০০–২০০২) এবং University of Education Freiburg (১৯৯৫–১৯৯৯)-এ অধ্যয়ন ও গবেষণার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। গবেষক- হিসেবে আমি Prof. Dr. Goiedo Smith, Prof. Dr. Alberto Penna এবং Prof. Dr. Dean-এর তত্ত্বাবধান ও সংযোগে জ্ঞান অর্জন করেছি। এই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও সচেতন পাঠকদের সাথে ভাগ করে নিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গবেষণাভিত্তিক রূপে পুনর্গঠনে কিছু সুপারিশ রাখতে চাই।

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা—কানাডা, স্পেন ও জার্মানির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন ও গবেষণার মাধ্যমে—দেখিয়েছে যে, সফল শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো তত্ত্ব ও প্রয়োগের কার্যকর সমন্বয়। এই অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট যে, তাত্ত্বিক শিক্ষা কখনোই অপ্রয়োজনীয় নয়; বরং সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে এটি দক্ষতা, উদ্ভাবন ও নীতিনির্ধারণের শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে ওঠে। সমস্যাটি তত্ত্বে নয়, বরং তত্ত্ব ও বাস্তবতার বিচ্ছিন্নতায়।

বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত এগোলেও একটি স্পষ্ট “skill mismatch” বিদ্যমান। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্ঞান অর্জন হচ্ছে, কিন্তু তা শিল্পখাতের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গবেষণা ও উদ্ভাবনের সীমাবদ্ধতা, এবং কর্মসংস্থানে শিক্ষার প্রতিফলনের অভাব—এই তিনটি সমস্যা উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

শিক্ষাদর্শের দিক থেকে, জন ডিউই শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন; পাওলো ফ্রেইরে শিক্ষা কে মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে দেখেছেন; আর অমর্ত্য সেন উন্নয়নকে মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে হতে হবে চিন্তা, দক্ষতা ও প্রয়োগের সমন্বিত একটি কাঠামো।

মূল চ্যালেঞ্জসমূহ

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় কয়েকটি মৌলিক সংকট স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান—

মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা, যেখানে ধারণাগত বোঝাপড়ার চেয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রিকতা প্রাধান্য পায়

তত্ত্ব ও বাস্তবতার মধ্যে বিচ্ছিন্নতা

বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের দুর্বল সংযোগ

গবেষণা অবকাঠামো ও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা

আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি ও প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার

একই সঙ্গে গুণগত বৈষম্য, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিকীকরণের অভাব এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সংস্কারের দিকনির্দেশনা

এই বাস্তবতায় উচ্চশিক্ষা সংস্কারকে হতে হবে সমন্বিত, সাহসী এবং দীর্ঘমেয়াদি—

প্রথমত, একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে, যা মাননিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

দ্বিতীয়ত, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প যৌথ উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা এবং গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি—এসব পদক্ষেপ অপরিহার্য।

তৃতীয়ত, পাঠ্যক্রমকে যুগোপযোগী করে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডাটা সায়েন্স এবং উদ্যোক্তা শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ ও কো-অপ প্রোগ্রাম বাধ্যতামূলক করা উচিত।

চতুর্থত, আন্তর্জাতিকীকরণে জোর দিতে হবে—যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম, বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণ এবং বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে।

পঞ্চমত, সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিয়োগ, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং ডিজিটাল মনিটরিং ছাড়া কোনো সংস্কার টেকসই হবে না।

ষষ্ঠত, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী এবং পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগ পায়।

উপসংহার

উচ্চশিক্ষা কেবল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির চিন্তাশক্তি, উদ্ভাবন এবং গণতান্ত্রিক চেতনার ভিত্তি। বাংলাদেশের জন্য উচ্চশিক্ষা এখন একটি কৌশলগত খাত—যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক ন্যায় এবং জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি হতে পারে।

এখন সময় সাহসী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়ার। কারণ আজকের শিক্ষানীতি নির্ধারণ করবে আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

 

//দেলোয়ার জাহিদ// 

ভারতের নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর আসনে অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী-এর কাছে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম নিরাপদ আসন হিসেবে পরিচিত ভবানীপুরে এই ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

শুভেন্দু অধিকারী তাঁর জয়ের পেছনে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর সমর্থনকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরে একে “হিন্দুত্ববাদের জয়” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুসলিম ভোট প্রধানত প্রতিদ্বন্দ্বীর পক্ষে গেলেও হিন্দু, শিখ, জৈন ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের সম্মিলিত সমর্থনই তাঁর বিজয় নিশ্চিত করেছে। তিনি এই ফলাফলকে “অরাজক শাসনের বিরুদ্ধে জনরায়” হিসেবেও আখ্যা দেন।

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করে একে “অনৈতিক জয়” বলে অভিহিত করেন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং নির্বাচন কমিশন ও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ছিল। তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

এই নির্বাচনী ফলাফল শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর প্রতিধ্বনি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তীব্র ভাবে অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সৃষ্ট পরিস্থিতির সঙ্গে এই ফলাফলকে অনেকেই তুলনামূলক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করছেন। ঐ সময় গণআন্দোলনের প্রেক্ষিতে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে এবং মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নির্বাচন আয়োজন। যদিও এখন ধীরে ধীরে উঠে আসছে এ পরিবর্তনের পিছনের প্রধান নীল নকশা, কুট কৌশল ও  এক ভূরাজনীতির এক নোংরা খেলা। 

পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিপুল বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করে। এই নির্বাচনকে অনেকেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখেন। নতুন সরকার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্যিক স্বার্থ ও নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রশ্নে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে এগোচ্ছে—এমন ইঙ্গিতও বিভিন্ন বিশ্লেষণে পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনী ফলাফলকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। প্রথমত, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ধর্মীয় মেরুকরণের প্রবণতা বৃদ্ধির একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির (identity politics) প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমশ বাড়ছে—এমন ধারণাও জোরালো হচ্ছে। তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক প্রভাব আঞ্চলিক রাজনীতিকে পুনর্গঠিত করছে—এই ব্যাখ্যাও অনেকের মধ্যে রয়েছে।

তবে “ভারতবিরোধী রাজনীতি” প্রসঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। বাংলাদেশে জনমত বা রাজনৈতিক বক্তব্যে ভারতের নীতির সমালোচনা থাকলেও, বাস্তব কূটনীতিতে বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশের সম্পর্ক মূলত পারস্পরিক স্বার্থ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল হওয়া প্রয়োজন। 

সংক্ষেপে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস একদিকে যেমন গণআন্দোলন, ভূমি সংস্কার ও সামাজিক ন্যায়ের লড়াইয়ের প্রতীক, অন্যদিকে এটি রাজনৈতিক সংঘাত, আদর্শগত বিভাজন ও ক্ষমতার পরিবর্তনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাহিনী। ১৯৭১-এর পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই রাজ্য ভারতের রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছে।

পশ্চিম বঙ্গের ও ভবানীপুরের নির্বাচনী ফলাফল কেবল  কয়েকটি আসনের পরিবর্তন নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে চলমান রূপান্তরের প্রতীক। বাংলাদেশেও এই ফলাফল সরাসরি কোনো একক রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে নয়, বরং ধর্মীয় মেরুকরণ, গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির জটিল আন্তঃসম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

 

উচ্চশিক্ষায় আস্থার সংকট: ইউজিসির ভেতরের অস্বস্তি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার
//দেলোয়ার জাহিদ//

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাত আজ এক গভীর আস্থার সংকটে দাঁড়িয়ে। University Grants Commission–এর আওতাধীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং জবাবদিহিতার ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক একটি পদত্যাগ সেই প্রশ্নগুলোকে নতুন করে সামনে এনেছে—আরও তীক্ষ্ণ, আরও অস্বস্তিকরভাবে।

ইউজিসির পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা Mohammad Tanzimuddin Khan গত ২৩ এপ্রিল কয়েকটি নির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগপত্রে উঠে আসা বিষয়গুলো কেবল একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা নয়; বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সমস্যাটি ব্যক্তি নয়, ব্যবস্থার গভীরে প্রোথিত।

যদি নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে সততা ও দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক লবিং, স্বার্থের সংঘাত এবং অনিয়ম প্রভাব বিস্তার করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া স্বাভাবিক। ইউজিসি, যা দেশের উচ্চশিক্ষার মান নির্ধারণ ও উন্নয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত, যদি নিজেই প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে পুরো খাতই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প—যেখানে World Bank–এর মতো সংস্থার সম্পৃক্ততা রয়েছে—সেখানে অনিয়ম বা চাপের অভিযোগ কেবল অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি দেশের আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা অবশ্যই একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এমন গুরুতর অভিযোগের মুখে প্রাতিষ্ঠানিক নীরবতা—যা আস্থার সংকটকে আরও গভীর করে।

এখানে একটি মৌলিক নীতি স্পষ্ট করা জরুরি: পদত্যাগ কখনোই জবাবদিহিতার বিকল্প হতে পারে না। বরং, পদত্যাগ ও অভিযোগ—এই দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখা উচিত। একজন কর্মকর্তা পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন; কিন্তু তাঁর উত্থাপিত অভিযোগ বা তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ—দুটিই সমান গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আওতায় আসতে হবে। অন্যথায়, একটি “resign and escape” সংস্কৃতি তৈরি হবে, যা প্রতিষ্ঠানের ভিতকে আরও দুর্বল করবে।

বর্তমান পরিস্থিতি তাই কেবল একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি বৃহত্তর সংকেত। উচ্চশিক্ষার গুণগত মানের অবনতি, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থাহানি, মেধাবী ও সৎ কর্মকর্তাদের নিরুৎসাহিত হওয়া—এসবই এই সংকটের সম্ভাব্য পরিণতি। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণে অচলাবস্থা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অদক্ষতাও বাড়তে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে কিছু জরুরি পদক্ষেপ অনিবার্য:

প্রথমত, উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাইয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ইউজিসির ভেতরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি।
তৃতীয়ত, স্বার্থের সংঘাত (conflict of interest) সংক্রান্ত নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
চতুর্থত, আন্তর্জাতিক অর্থায়নপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোতে তদারকি ও অডিট ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।
পঞ্চমত, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
এবং সর্বোপরি, অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

একজন শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এই খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়—বর্তমান পরিস্থিতি সাধারণ কোনো প্রশাসনিক দুর্বলতা নয়; এটি একটি সতর্কবার্তা। যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে এই আস্থার সংকট আরও গভীর হবে এবং এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পুরো জাতির জ্ঞানভিত্তিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করবে।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতকে টেকসই ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে ইউজিসিকে একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা ছাড়া বিকল্প নেই। পদত্যাগ সাময়িক সমাধান দিতে পারে; কিন্তু প্রকৃত সংস্কার আসবে তখনই, যখন স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া এবং দায়বদ্ধতা—এই তিনটি নীতি বাস্তবায়িত হবে।

এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—সংকটকে আড়াল করা, নাকি সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়া।

খুলনা, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইনি ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

আজ শনিবার খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্ববোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। সবসময় মনে রাখতে হবে পুলিশ জনগণের সেবক, জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

পুলিশ প্রধান আরও বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সাইবার ট্র্যাকিংসহ সকল আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি থানাকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজগম্য, জনবান্ধব ও আস্থার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন। 

মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পুলিশ ও সাধারণ জনগণকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজের সচেতন ও ভালো মানুষদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে অপরাধ দমনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।

আইজিপি বলেন, কোনো দুর্ঘটনা, অপরাধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক তদন্ত, সঠিক রিপোর্টিং এবং দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমেই সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব ।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (কেএমপি) মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় খুলনা বিভাগের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের প্রধানসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় খুলনা বিভাগের পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা তাদের সমস্যা ও চাহিদার কথা আইজিপির কাছে তুলে ধরেন। আইজিপি সকলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং যথাসম্ভব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

কল্যাণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, পিটিসি খুলনার কমান্ড্যান্ট মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়াসহ খুলনার বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারগণ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে আইজিপি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে এলে পুলিশের একটি চৌকস দল আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে গার্ড অব অনার দেয়। 

পরবর্তীতে তিনি বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্সের প্রাকৃতিক ও মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি পুলিশ লাইন্সের পরিবেশ, সবুজায়ন ও নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তিনি পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এছাড়া তিনি কেএমপির নির্মাণাধীন বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন।

 

ছবি : বাসস