ছাপা 
 
 
শিক্ষা সংবাদদাতা//
 
বগুড়ার পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে চলমান প্রশাসনিক অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে উপাচার্য অধ্যাপক ড. চিত্তরঞ্জন মিশ্রের বিরুদ্ধে উত্থাপিত একাধিক গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এসব অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুশাসন, নৈতিকতা এবং আইনি কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে।
 
জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে চারটি প্রধান অভিযোগ উত্থাপন করা হয়—
 
ফৌজদারি মামলা:
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সহিংসতা ও দমন-পীড়নের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে, যেখানে তিনি আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
 
অনুমোদনবিহীন বিদেশ গমন:
অভিযোগ রয়েছে, তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই একাধিকবার বিদেশ সফর করেছেন। সর্বশেষ ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভারতে যাত্রা প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের শামিল বলে মনে করা হচ্ছে।
 
পদত্যাগপত্র নিয়ে অনিশ্চয়তা:
২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর দাখিল করা তার পদত্যাগপত্র ২০২৬ সালের শুরু থেকে কার্যকর করার কথা থাকলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, যা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতার ইঙ্গিত দেয়।
 
দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার:
নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে নিজের পুত্রকে যোগ্যতা ছাড়াই শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রচেষ্টার অভিযোগ পরে তদন্তে বাতিল হয়।
 
আইনি ও প্রশাসনিক বিশ্লেষণ
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তি ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত থাকা অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বহাল থাকলে তা নৈতিকতা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন তোলে। একইভাবে, অনুমোদন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ সরকারি আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
 
পদত্যাগপত্র দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা প্রশাসনিক দুর্বলতা নির্দেশ করে, আর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।
 
গভীরতর সংকট
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ কার্যত অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হচ্ছে।
 
করণীয়
 
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা নিম্নোক্ত পদক্ষেপের সুপারিশ করেছেন—
 
স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন
সংশ্লিষ্ট অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত
প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ
প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ
উপসংহার
 
পুন্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সংকট কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; এটি দেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতের গভীর কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শিক্ষা ব্যবস্থায় জনআস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।